প্রচ্ছদ অপরাধ, জাতীয়, শিরোনাম, স্লাইডার

কারাগারে ভিডিও কলের সুযোগ পাবেন বন্দিরা

নিউজ ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | পড়া হয়েছে 320 বার

কারাগারে ভিডিও কলের সুযোগ পাবেন বন্দিরা

দেশের কারাগারগুলোকে সংশোধনাগার করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’ স্লোগান সামনে রেখে বন্দিদের নিরাপদ আটক নিশ্চিত করা হবে। বন্দিরা ভিডিও কলের মাধ্যমে স্বজনের দেখা ও কথা বলার সুযোগ পাবেন। শুধু তাই নয়, বন্দিদের সঙ্গে করা হবে মানবিক আচরণ।

কারাবন্দিদের জন্য থাকছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। থাকবে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যবস্থা। এজন্য তৈরি হচ্ছে যথাযোগ্য বাসস্থান। সুখাদ্য, চিকিৎসা, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। কারাবন্দিদের সুনাগরিক হিসেবে সমাজে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মোটিভেশন এবং প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অষ্টম বৈঠক কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

বৈঠকে এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা, কারাগার হবে সংশোধনাগার। এ ভিশন সামনে রেখে কারা অধিদফতর কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, কারাগারে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান তিনটি, ২০০ শয্যা হাসপাতাল একটি বিদ্যমান। নারী কারাবন্দিদের জন্য ৪৫৬টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। ডে কেয়ার সেন্টার আটটি, মাদকাসক্তদের জন্য আলাদা ৫৯টি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।

দেশে ৬৮টি কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা ৪০ হাজার ৬৬৪। বর্তমান বন্দির সংখ্যা ৮৯ হাজার ৩৯। তার মধ্যে বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা ৭১ হাজার ৩৫৯।

কারাগারকে সংশোধনাগারে রূপান্তরের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের কথা জানাতে গিয়ে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ‘প্রিজন লিংক প্রকল্পের মাধ্যমে বন্দিরা স্বজনের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখা ও কথা বলার সুযোগ পাবেন। সকালে নাস্তা ও গুড়ের পরিবর্তে সপ্তাহে দুদিন খিচুড়ি, একদিন হালুয়া, রুটি; চারদিন সবজি ও রুটি পাবেন। এ ছাড়া বিশেষ দিবসে উন্নত খাবার পরিবেশনে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।’

কয়েদি পরিচ্ছন্নকর্মীদের মাসিক মজুরি ২০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। কারাগারে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির লাভের অংশ ৫০ শতাংশ পারিশ্রমিক হিসাবে প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইফতারির বরাদ্দ ১৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ২৮টি কারাগারে ৩৩ হাজার ৫৩১ জন বন্দিকে ৩৮টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলেও জানান কারা মহাপরিদর্শক।

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৬-১৮ অর্থবছরে ৯৭ হাজার ৯৪০ জন বন্দিকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়। ফলে ১১ হাজার ১৪০ জন বন্দিকে মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়েছে। আত্মকর্মসংস্থানের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। কারাগারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্নতার কারণে এবার ডেঙ্গু রোগ দেখা যায়নি। জঙ্গি সম্পৃক্ততা নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে দুই হাজার ২৫৩ জন কারারক্ষী এবং নারী কারারক্ষীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।’

এ সময় কমিটির সদস্য ও সাবেক পুলিশের আইজি নূর মোহাম্মদ জানতে চান, কারাগারে এমন কোনো সাফল্য আছে কিনা- যা দেখে অন্যরা অনুপ্রাণিত হতে পারে? জবাবে মহাপরিচালক জঙ্গি ও মাদকের বিষয়ে কারাগারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তার সফলতা তুলে ধরেন।

সংসদীয় কমিটি এ সময় কারাগারে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং কারা অধিদফতর ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের শূন্য জনবল দ্রুত পূরণ সুপারিশ করে। এ ছাড়া কারাগারে ডাক্তার নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেয়া হয়।

Comments

comments

Visitor counter